Dhaka ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দক্ষিণ শাহবাজপুরে অর্ধশতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের সংবর্ধনা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে অভিনেত্রী রিধিকার ‌‘আত্মহত্যা’ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় লাইসিয়াম স্কুলের পাশের হার ৯৮.১৪%। জিপিও ৫.০০ : ৩৩ জন ওয়াসিম ব্রিগেড কমিটি, বড়লেখা উপজেলা শাখার উদ্যোগে জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বীমা গ্রাহকের আস্থা, নিরাপত্তা ও সাফল্যের ৪২ বছরে বীমা খাতে সবার শীর্ষে ন্যাশনাল লাইফ ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এক ঘণ্টায় দুই গ্রাহকের ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করল ন্যাশনাল লাইফ বিকেএসপির স্বাস্থ্য বীমা বাবদ ৩ লাখ টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি ।

ইসলামী ব্যাংকিং সংস্কারের ইঙ্গিত: শক্তিশালী হচ্ছে শরিয়াহ বোর্ড

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬১৮ সময় দেখুন

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য শরিয়াহ বোর্ডকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে হবে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, শরিয়াহ বোর্ডকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। বোর্ডের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা থাকলে অনিয়ম ও অর্থপাচারের সুযোগ কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে।

গভর্নর আরও বলেন, অতীতে কিছু ইসলামী ব্যাংকে বড় ধরনের অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার মূল কারণ ছিল দুর্বল তদারকি। ইসলামী ব্যাংকিং মূলত সম্পদভিত্তিক হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সভায় আলেম-উলামা ও বিশেষজ্ঞরা খাতের উন্নয়নে ২০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— সুদমুক্ত ও প্রতারণামুক্ত লেনদেন নিশ্চিত করা, লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগিভিত্তিক বিনিয়োগ চালু করা, শরিয়াহ সুপারভিশন ও অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং বড় বিনিয়োগে একাধিক শরিয়াহ অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা।

এছাড়া আলাদা ‘ইসলামী ব্যাংকিং আইন’ প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৃথক ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ, আলাদা কমপ্লায়েন্স বিভাগ গঠন এবং নিয়মিত বাহ্যিক শরিয়াহ অডিট চালুর প্রস্তাবও আসে। স্বচ্ছতা বাড়াতে শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং চালু ও আলাদা কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালুর কথাও বলা হয়।

মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকের পরিচালক ও এমডিদের জন্য শরিয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করা, আলেমদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যাংকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী অর্থনীতি বিভাগ চালুর সুপারিশ করা হয়।

অর্থপাচার রোধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বড় দুর্নীতিকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাবও ওঠে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা আলোচনায় উঠে আসে।

সভায় শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, ব্যাংকার, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এসআই/এমএআর/

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণ শাহবাজপুরে অর্ধশতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের সংবর্ধনা

ইসলামী ব্যাংকিং সংস্কারের ইঙ্গিত: শক্তিশালী হচ্ছে শরিয়াহ বোর্ড

আপডেটের সময়: ০২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য শরিয়াহ বোর্ডকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে হবে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, শরিয়াহ বোর্ডকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। বোর্ডের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা থাকলে অনিয়ম ও অর্থপাচারের সুযোগ কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে।

গভর্নর আরও বলেন, অতীতে কিছু ইসলামী ব্যাংকে বড় ধরনের অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার মূল কারণ ছিল দুর্বল তদারকি। ইসলামী ব্যাংকিং মূলত সম্পদভিত্তিক হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সভায় আলেম-উলামা ও বিশেষজ্ঞরা খাতের উন্নয়নে ২০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— সুদমুক্ত ও প্রতারণামুক্ত লেনদেন নিশ্চিত করা, লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগিভিত্তিক বিনিয়োগ চালু করা, শরিয়াহ সুপারভিশন ও অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং বড় বিনিয়োগে একাধিক শরিয়াহ অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা।

এছাড়া আলাদা ‘ইসলামী ব্যাংকিং আইন’ প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৃথক ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ, আলাদা কমপ্লায়েন্স বিভাগ গঠন এবং নিয়মিত বাহ্যিক শরিয়াহ অডিট চালুর প্রস্তাবও আসে। স্বচ্ছতা বাড়াতে শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং চালু ও আলাদা কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালুর কথাও বলা হয়।

মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকের পরিচালক ও এমডিদের জন্য শরিয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করা, আলেমদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যাংকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী অর্থনীতি বিভাগ চালুর সুপারিশ করা হয়।

অর্থপাচার রোধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বড় দুর্নীতিকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাবও ওঠে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা আলোচনায় উঠে আসে।

সভায় শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, ব্যাংকার, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এসআই/এমএআর/