
মৌলভীবাজারে আন্তঃধর্মীয় একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দুইজন নিহত ও একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদ, মৌলভীবাজার শাখা। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। উল্ল্যেখ্যে যে, সৌরভ রায় শুভ গত ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে মৃত্যু বরন করেন এবং তিনি একজন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, খ্রিস্টান যুবক মুকুল রয় ও মুসলিম তরুণী বিনা বেগম গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার জেরে ১৪ মার্চ দুপুরে বিনা বেগমের পিতা রব্বান মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে প্রথমে মুকুল রয়ের বাড়িতে হামলা চালান। সেখানে তাকে না পেয়ে তারা বিয়েতে সহায়তাকারী মোঃ তানজিব ইসলামের বাড়িতে হামলা করেন।
হামলার সময় মোঃ তানজিব ইসলামকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার মা রাবিয়া বেগম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় মোঃ তানজিব ইসলামের পিতা মইদুল ইসলাম ও স্ত্রী সুরমিন বেগম গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া, বিয়েতে সহযোগিতার অভিযোগে সৌরভ রায় শুভর ওপর হামলা চালিয়ে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন, ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুইজনে।
এ ঘটনায় একাধিক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর জানান যে, রব্বান মিয়া উগ্রবাদী ইসলামী দল বংলাদেশ জামায়েত ইসলামী এর স্থানীয় পদধারী সিনিয়র নেতা।
এ বিষয়ে বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদ, মৌলভীবাজার শাখা জানায়, এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। সংগঠনটি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।